Job Preparation

মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে একজন প্রার্থীর জ্ঞানের গভীরতা, লেখার ভঙ্গি প্রকাশ পায়। অপরপক্ষে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা এর মাধ্যমে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, আচার-আচরণ ইত্যাদি সম্পর্কে যাবতীয় ধারণা পাওয়া যায়। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনা করার সময় থাকে কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সুযোগ থাকে না।

মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা সম্পর্কে পরীক্ষার্থীদের জ্ঞাতব্য

মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়াই আসল কথা নয় বরং সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দরভাবে উত্তর প্রদান করাই আসল কথা। এজন্যই দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী সকল প্রশ্নের উত্তর সঠিক দিয়েও অকৃতকার্য হন, আবার অনেক পরীক্ষার্থী ৬০ থেকে ৭০ ভাগ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েও কাঙ্খিত পদে চাকরি পেয়ে থাকেন। কোন ব্যক্তির পক্ষেই জ্ঞানের সকল বিষয়ে ধারণা রাখা সম্ভব নয়।

অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ জিনিস সব ভুলে যান এমনও হতে পারে আদৌ বিষয়টি জানেন না। জানা থাকা অবশ্যই ভালো তবে না জানাও দোষের কিছু নয়। এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী কতটা দক্ষতা ও উপস্থিত বুদ্ধির সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারল সেটাই বিবেচনা করা হয়। একটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে বোর্ডকে যতটা না খুশি করতে পারেন , তার চেয়ে অন্য কেউ সুকৌশলে ও সুমিষ্ট ভাবে সেই প্রশ্নের ব্যাপারে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে বোর্ডকে আরো বেশি মাত্রায় খুশি করতে পারেন। তাই বলে ক্রমাগত অপারগতা প্রকাশ করা ঠিক নয়।
মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস একটি  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অনেকেই ভাইবা বোর্ড সম্পর্কে অযথা একটা ভয়ও আতঙ্কের মধ্যে থাকি। নার্ভাস ফিল পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক। মনে রাখতে হবে আমার যতটুকু পুজি (জ্ঞানের) আছে, তা নিয়েই আমি পরিস্থিতি মোকাবেলা করব। এর বাইরে যদি কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাহলে বিনয়ের সাথে আমার অপারগতা প্রকাশ করব। একটি, দুটি ,তিনটি প্রশ্ন পরপর উত্তর দিতে পারেননি তারপরে ও অনেকের চাকরি হয়েছে এমন প্রমাণ রয়েছে। অনেকেই দেখা যায় প্রথমে একটি দুটি প্রশ্ন না পারলে নার্ভাস হয়ে যান তখন সহজ-সরল জিনিসও ভুল হতে শুরু করে। তাই নার্ভাসনেস কে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
ভাইভা বোর্ডের প্রশ্নের ক্ষেত্রে কিছুটা ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। সাধারণত নাম, এলাকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ,পঠিত বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্ন নিজ জেলা এবং নিজ জেলার বিখ্যাত বিষয়াবলী নিয়ে প্রশ্ন শুরু হয়। তাছাড়া সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহ এবং সাধারণ জ্ঞানের উপর তো প্রশ্ন থাকেই, এগুলো বিষয় অবশ্যই পরীক্ষার্থীকে আর রাখতে হবে। আপনি কখনোই মনে করবেন না আপনি ৫০ নম্বর ফেস করতে যাচ্ছেন বরং মনে করবেন ৫০ নম্বর অর্জন করতে চাচ্ছেন। তাহলে ভয় ভীতি নয় বরং মনের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ ও প্রেরণা কাজ করবে।

(পরীক্ষার দিনের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক কিছু কথা)

১। পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছু আগেই পূর্ব প্রস্তুতি সেরে ফেলতে হবে তা না হলে তাড়াহুড়ো করে কোন কাজ করতে গেলে অবশ্যই মানসিক টেনশন হবে এজন্য আপনার মূল্যবান পরীক্ষাটা ও খারাপ হতে পারে।
২। যে সকল কাগজপত্র বোর্ডের সামনে পেশ করতে হবে সেগুলো অবশ্যই পূর্বেই গুছিয়ে নিতে হবে।
৩। চুল- নখ ,দাড়ি -গোঁফ কেটে পরিষ্কার  হয়ে বোর্ডে উপস্থিত হওয়া উচিত। এগুলো অবশ্যই পরীক্ষার দিনের জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়।
৪। অবশ্যই পোশাক পরিচ্ছন্ন হওয়া উচিত। পোশাক খুব রং- চংয়ে  না হওয়া ভালো। সাদা শার্ট এবং কালো প্যান্ট ই সবচাইতে পারফেক্ট। শার্টের পকেটে একটি কালো কালের কলম ও হাতে একটি ঘড়ি ইউজ করলে ভালো।
৫। পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই পরীক্ষার দিনের পত্রিকার মূল বিষয়গুলো একবার দেখে নেয়া ভালো। তাছাড়া ইংলিশ তারিখ ও সাল ,বাংলা তারিখ  ও সাল ,আরবি তারিখ ও সাল , এই তারিখে কোন বিখ্যাত ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু হয়েছে কিনা বা জাতীয় কোন দিবস কিনা যদি কোন দিবস হয় সে ক্ষেত্রে সেই বিষয় সম্পর্কে ডিটেলস জেনে যাওয়া উচিত।
৬। অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত এক ঘন্টা আগে পরীক্ষার হলে পৌঁছানো উচিত । যদি তাড়াহুড়ো করে যেতে হয় এবং এজন্য মানুষিক দুশ্চিন্তা হয় তাহলে অবশ্যই আপনার পরীক্ষাটা খারাপ হওয়া সম্ভব না থাকবে।
৭। কাকে কি প্রশ্ন করল, আমি সেটা পারি কিনা এটা নিয়ে কোন মানুষের চিন্তা করবেন না কারণ আপনাকে ওই প্রশ্নটি নাও ধরতে পারে অযথা টেনশন করলে এর প্রভাব আপনার পরীক্ষাতেও করতে পারে।
৮। সর্বোপরি শান্তশিষ্ট মেজাজে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করবেন।

( ভাইবা পরীক্ষায় প্রবেশ করার পর যেগুলো করা উচিত)

১। রুমে প্রবেশ করে প্রথমে সালাম দিতে হবে ঃ রুমে প্রবেশ করে অবশ্যই পরীক্ষকদের চোখের দিকে তাকিয়ে সালাম দেওয়া উচিত। এরপর পরীক্ষক গ্রহণ বসতে বললে বসা উচিত। অনেক সময় বসতে বলতে সময় নিয়ে পরীক্ষা করেন সেক্ষেত্রে অনুমতি বিহীন না বসে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এভাবে অনেক সময় আপনার ধৈর্য পরীক্ষা করবে। সবশেষে অনুমতি নিয়ে আপনাকে বুঝতে হবে।
২। আচরণ অবশ্যই মার্জিত হতে হবে ঃ পরীক্ষক প্রশ্ন করলে ভালোভাবে শুনে স্পষ্টভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্রমান্বয়ে উত্তর দিতে হবে। উত্তরগুলো মার্জিত ভাবে দেওয়া উচিত।
৩। আপনার উত্তরে মনোবল ঠিক রাখবেন ঃ আপনি সঠিক উত্তর দিয়েছেন তার পরেও পরীক্ষক আপনাকে বলতে পারেন উনি ঠিক বলছেন তো? সে ক্ষেত্রে আপনি যদি মনে করেন উত্তর সঠিক দিয়েছেন তাহলে ঘাবড়ানোর প্রয়োজন নেই ভদ্র ও মার্জিত ভাবে বলবেন জি স্যার।
৪। রাগান্বিত হওয়া যাবে না ঃ পরীক্ষক ব্যক্তিগত বা গোপনীয় প্রশ্ন করতে পারেন পরীক্ষা করার জন্য, এমনকি কটাক্ষ করেও কিছু প্রশ্ন করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে কোনভাবেই রাগান্বিত হওয়া যাবে না, ঠান্ডা মাথায় উত্তর করতে হবে।
৫। সুস্পষ্ট ও সহজ ভাবে উত্তর করতে হবে ঃ কোন প্রশ্ন ভালো করে না শুনে অযথা পেঁচিয়ে ফেলবেন না। উত্তর সংক্ষিপ্তভাবে এবং সঠিক উত্তর করবেন। কোনভাবেই বেশি পারদর্শিতা দেখাতে যাবেন না সে ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। কোন প্রশ্ন ঠিকভাবে শুনতে না পারলে বিনয়ের সাথে বলবেন স্যার আমি ভাল বুঝতে পারিনি এটা আরেকবার প্লিজ।
৬। তর্কে জড়ানো যাবে না ঃ কোন প্রশ্নের সঠিক উত্তর নিয়ে বোর্ডের সদস্যদের সাথে তর্কে জড়ানো যাবে না। সদস্যদের কোন ভুল তথ্য পেলে সেক্ষেত্রে সরাসরি ভুল প্রমাণিত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনি প্রশ্ন করতে যাননি, প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েছেন । এখানে আপনার ভদ্রতার ও পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।
৭। সবজান্তার ভাব করা অনুচিত ঃ নিজেকে সবজান্তা হিসেবে প্রকাশ করবেন না। সৌজন্যতার সাথে প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের জবাব দিন।
৮। উপস্থিত বুদ্ধির ব্যবহার ঃ ভাইভা পরীক্ষায় ভেবেচিন্তে উত্তর দেওয়ার সময় হাতে থাকে না ,সে ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার সাথে উত্তর দিতে হয়। এক্ষেত্রে আপনার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে। কখনোই অজানা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করবেন না নম্রভাবে বলবেন স্যার আমার জানা নেই।
৯। অবশ্যই পরীক্ষকের চোখের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিন।
১০। শুদ্ধ ও সঠিক ভাষায় উত্তর করার চেষ্টা করবেন। গুরুচণ্ডালী দোষ বেড়ানোর চেষ্টা করবেন।

(মৌখিক পরীক্ষার জন্য একজন পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতি)

  1. ১। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান, আয়তন, জনসংখ্যা ইত্যাদি সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা থাকতে হবে
  2. ২। বাংলাদেশের আয়তন, লোকসংখ্যা ,শিক্ষার হার ,উপজেলা /থানার সংখ্যা ইত্যাদি।
  3. ৩। প্রার্থীর নিজ জেলা, থানার আয়তন, লোক সংখ্যা শিক্ষার হার প্রধান ফসল ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে।
    ৪। প্রার্থীর জেলা বা উপজেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব যেমন রাজনীতিবিদ ,সাহিত্যিক ,সমাজ দরদী, শিল্পী, খেলোয়ার, ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
    ৫। পার্থের জেলা বা উপজেলায় ঐতিহাসিক কোন স্থান, নদী ইত্যাদি থাকলে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে।
    ৬। প্রার্থীর নিজের নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিখ্যাত ব্যক্তির সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
    ৭। প্রার্থী বর্তমানে চাকরিরত হলে সেই চাকুরীর সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াদি সম্পর্কে  ধারণা রাখতে হবে।
    ৮। প্রার্থীর পছন্দনীয় কাজ সম্পর্কে কিছু ধারনা রাখতে হবে।
    ৯। পরীক্ষার দিনে প্রকাশিত জাতীয় পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখতে হবে।
    ১০। প্রার্থী যে বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানতে হবে।
    ১১। বাংলাদেশের প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার নাম, বাংলা তারিখ ও মাসের নাম, আরবি তারিখ ও মাসের নাম সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।
    ১২। নিজের সম্পর্কে ইংরেজিতে বলা।
    ১৩। প্রিয় লেখক এর যে কোন একটি কবিতার ৫ লাইন জানা থাকতে হবে।
    ১৪। প্রিয় শিল্পীর একটি গানের কিছু অংশ জানা থাকতে হবে।
    ১৫। দেশের ও বিদেশের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

পড়ুনঃ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ বিভাগ

(যে সকল কারণে মৌখিক পরীক্ষা খারাপ হয়ে থাকে)

১। প্রশ্নের উত্তরে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা, তোতলামো করা।
২। নার্ভাস ফিল করা, টেনশন ভাব ফুটিয়ে তোলা।
৩। আঞ্চলিক ভাষার সাথে সাধু ভাষার মিশ্রণ ঘটিয়ে কথা বলা।
৪। অজানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা সে ক্ষেত্রে ছলনার আশ্রয় নেয়া, ভুল তথ্য প্রদান করা।
৫। ইংরেজি ভাষার উপর পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকা, ছোটখাটো ট্রান্সলেশন করতে গিয়ে ভুল উত্তর প্রদান করা।
৬। ময়লা পোশাক পরিধান করা এবং চেহারায় সতেজতা না থাকা।
৭। বোর্ডের সদস্যদের চোখে চোখ না রেখে উত্তর দেওয়া, এদিক সেদিক তাকাতাকি করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button