Health

মাথাব্যথার নানা ধরন ও করণীয়

কখনো মাথাব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ বোধ হয় পাওয়া যাবেনা। মাথাব্যথার নানা ধরণ ও কারন রয়েছে। প্রায় ৫০শতাংশ মানুষ দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথায় ভোগেন। মাইগ্রেনের কারণে মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন অনেকেই।

মাথাব্যথার নানা ধরন ও করণীয়
মাথাব্যথার নানা ধরন ও করণীয়

শরীরের অন্যান্য  অংগের সমস্যার ফলে হতে পাড়ে মাথাব্যথা। কারো মাথার একপাশে ব্যথা হয়। কারো পুরো মাথা জুড়ে। কারো আবার চোখ, মুখ, চোয়াল, ঘারসহ ব্যথা হয়।

মাথাব্যথার নানা ধরন ও করণীয়

প্রধানত দুই রকমের  মাথাব্যথা দেখা যায়।

  • প্রাইমারি
  • সেকেন্ডারি

প্রাইমারি মাথাব্যথা

মস্তিস্কের স্নায়ু, পেশি ও রক্তনালির জটিলতা সংক্রান্ত মাথাব্যথা হচ্ছে প্রাইমারি মাথাব্যথা। মাথার নিজস্ব রোগের কারণে এটি হয়ে থাকে। এ মাথাব্যথা অন্য কোন রোগের উপসর্গ নয়। সাধারনত নিমোক্ত কয়েক ধরণের মাথাব্যথা প্রাইমারি মাথাব্যথার অন্তর্ভুক্ত।

মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা

এ জাতীয় মাথাব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশে হয়ে থাকে  এবং  ব্যাথা হয় খুব তীব্র। দুই ঘন্টা থেকে দুই, তিন দিন পর্জন্ত স্থায়ী হতে পারে এই ব্যাথা। আক্রান্ত ব্যাক্তি  আলো,শব্দ বা গন্ধের প্রতি সংবেদনশীল হতে পাড়েন। অর্থাৎ অতিরিক্ত আলো, শব্দ, বাঁ গন্ধ পেলে  মাথাব্যথা শুরু হয়।

ক্লাস্টার মাথাব্যথা

মাইগ্রেনের মতো এ ব্যথাও মাথার এক পাশে হয়। তবে মাইগ্রেনের তুলনায় এর স্থায়িত্ব কম। বিশ মিনিট থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে এ ব্যথা ভালো হয়ে যায়। তবে এটি বেশ গুরুতর। প্রতিদিন একই সময় হয় এবং দিনে কয়েকবার হতে পারে। এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গের দেখা দিয়ে থাকে। যেমন- একপাশের নাক বন্ধ হয়ে থাকা চোখ জ্বালা, চোখ দিয়ে পানি পড়া প্রভৃতি।

দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বাঁ মানশিক চাপের কারণে  অনেকের কপালে পেশি সংকুচিত হয়ে যায়। তখন শুরু হয় মাথাব্যথা। এক্ষেত্রে মাথার চার পাশে কোনকিছু  চেপে ধরে আছে বলে মনে হয়। কপাল,ঘার বা কাঁধেও এ ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দৈনন্দিন জীবনেযাপনে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চললে মাথাব্যথা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকা যায়।

সেকেন্ডারি মাথাব্যথা

অন্য কোন রোগের উপসর্গ হিসাবে এ ধরণের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। প্রাইমারী মাথাব্যথার চেয়ে গুরুতর ও ঝুকিপূর্ন এটি। নিমোক্ত রোগগুলোর লক্ষন হিসাবে এ  ধরনের মাথাব্যথা হয়।

মস্তিস্কের টিউমার

এ ক্ষেত্রে খুব ভোরের দিকে মাথাব্যথা শুরু হয়। সঙ্গে খিচুনিও হতে পারে।

মস্তিস্কের অ্যানিউরিজম 

এটি মস্তিস্কের ধমনির ফোলা অংশ, যা হটাৎ ফেটে গিয়ে রক্তপাত ঘটায়। ফেটে যাওয়ার আগে প্রচন্ড মাথাব্যথা হয়। সেই সঙ্গে বমি বা বমিভাব হতে পারে। রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।

মেনিনজাইটিস

মস্তিস্কের  আচ্ছাদনকারী পর্দায় ভাইরাস বা ব্যাকটেরির সংক্রমণ ঘটলে  এটি হয়। এতে প্রচন্ড মাথাব্যথার পাশাপাশি ঘারও শক্ত হয়ে যেতে পারে।

সাইনোসাইটিস

অ্যালার্জি কিংবা জীবানুর  সংক্রমণে সাইনাসে প্রদাহ হয়ে এই মাথাব্যথা হয়ে থাকে। চোখ, গাল ও কপালজুড়ে এই ব্যথা হয়।

হরমোনের সমস্যা 

হরমোনের ওঠানামার জন্য হতে পারে মাথাব্যথা। ঋতুস্রাব, গর্ভবস্থা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এ জাতীয় মাথাব্যথা হয়।

উচ্চ রক্তচাপ

রক্তচাপ বেড়ে গেলে মাথাব্যথা হতে পারে। সেই সাথে মাথার দুই পাশে দপদপ করে কাঁপতে পারে।

রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক

মস্তিস্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে বা ছিঁড়ে গিয়ে স্ট্রোক হতে পারে। একে বলে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক। এটি সরাসরি মাথাব্যথার সঙ্গে যুক্ত এক্ষেত্রে মাথাব্যথা হয় ভয়াবহ। যেন এর চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক মাথাব্যথা আর নাই।

মাথাব্যথা

প্রতিকার

ব্যথানাশক ওষুধ খেলে সাময়িকভাবে মাথাব্যথা কমতে পারে। কিন্তু মাথাব্যথার সঠিক কারণ নির্নয় না করে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান, এমাআরআই বা পিইটি স্ক্যানের মাধ্যমে মাথাব্যথার করণ নির্ণয় করতে হবে এবং এস অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

মাথাব্যথার উপশমে করণীয়

প্রাইমারি মাথাব্যথার খুব যন্ত্রণাদায়ক- এ কথা ঠিক। তবে এটি অন্যান্য রোগের জন্য ঝুকিপুর্ণ নয়। প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি মাথাব্যথা যেমনই হোক, দৈনন্দিন জীবনযাপনে নিমোক্ত নিয়ম মেনে চললে মাথাব্যথা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকা যায়।

ব্যথা নিয়ে যত বিভ্রান্তি ও সমাধান

  • দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকুন।
  • দীর্ঘক্ষন একটানা কাজ করবেন না।
  • মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনে বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকবেন না।
  • ঘুমের সাইকেল ঠিক রাখুন।
  • মাথাব্যথার সময় কফি বা চা পান করলে উপকার পাবেন
  • অধিক আলো, শব্দ, গন্ধ এড়িয়ে চলুন।
  • ধূমপান ও মদ্যপান থেক বিরত থাকুন।
  • মাথাব্যথা হলে বই পড়া গান শোনা বা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দিন।
  • দীর্ঘক্ষন কানে ইয়ার ফোন গুঁজে রাখবেন না। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button