Health

ব্যথা নিয়ে যত বিভ্রান্তি ও সমাধান

বুকে ব্যথা হলে প্রথমেই আমরা কী চিন্তা করি? হয়তো অ্যাসিডিটি হয়েছে, একটা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। কখনো এটা ভাবি না, হতে পারে হৃদরোগের ব্যথা অথবা শ্বাসকষ্ট। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা ও তো হতে পারে। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত মাথা ব্যথা হলেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

ব্যথা নিয়ে যত বিভ্রান্তি ও সমাধান
ব্যথা নিয়ে যত বিভ্রান্তি ও সমাধান

এক মাথাব্যথারই আছে নানা ধরন। মাইগ্রেন, সাইনোসাইটিস,টেনশন টাইপ হেডক, ক্লাস্টার হেডেক, আঘাতজনিত ব্যথা  ইত্যাদি।

ব্যথা নিয়ে যত বিভ্রান্তি

শ্রীরে নানান ধরনের ব্যথায় প্রায়ই অনেকে এমন বিভ্রান্তিতে পড়েন। ব্যথার কারণ না জেনে নিজে নিজে ওষুধ সেবন করেন। ব্যথা  নিয়ে এসব বিভ্রান্তি ও অবহেলা কখনো কখনো রোগীকে জটিল অবস্থায় ফেলে দেয়। পরিচিত কিছু ব্যথা  ও সেসব নিয়ে যত বিভ্রান্তি প্রচলিত তা নিম্নরূপ-

বুকে ব্যথা  হৃদরোগ নাকি গ্যাস্টিক

হৃদরোগের ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকেই। ব্যথার ধরনে কখনো কখনো মিল পাওয়া গেলেও দুটো জিনিস পুরোপুরি ভিন্ন। সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে রোগীর জীবন সংশয় হতে পারে। হৃদরোগের  অন্যতম উপসর্গ বুকের একপাশে বা বুকজুরে চাপ চাপ ব্যথা। হাত বা শরীরের কোনো অংশে ব্যথা হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হলে ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড ঘাম হওয়া ও কথা জরিয়ে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বুক ধড়ফড় করা ও অনেকসময় মুখের একপাশ বেঁকে যেতে দেখা যায়। আবার কখনই বুকে ব্যথা হয়নি, বুকে চাপ ধরে আসেনি, এমনকি কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায়নি। তারপরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই বুকে ব্যথা হলে গ্যাস্ট্রিক ভেবে অবহেলা করবেন না। ব্যথা শুরু হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিন।

প্রস্রাবের সময় ব্যথা-ইনফেকশন নাকি কিডনি রোগ

প্রস্রাবের ব্যথা কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। তবে, শুধু কিডনির সমস্যা হলেই প্রস্রাবে ব্যথা হবে এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ডায়াবেটিস,টিউমার, মূত্রথলির সমস্যা, ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়া, পুরুষদের প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যাওয়া, মহিলাদের জরায়ুরমুখের প্রদাহসহ নানান কারণে কিডনির ছাকঁকুকুঙ্গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাব ব্যথা অ অন্যান্য সমস্যা সেখা দিতে পারে। আবার প্রস্রাবের ইনফেকশনহলেও ব্যথা হতে পারে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও করমক্ষম মানুষের প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি পান করেন। এ কারনেও প্রস্রাবে ব্যথা হতে পারে। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৪-৫ বার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। যদিও এর চেয়ে বেশি বা কম হয় এবং এটি নিয়মিত হতে থাকে, তাহলে দ্রুত একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন।

পেট ব্যথা হলেই কি পিত্তে পাথর

বেশিরভাগ সময়ই পেটব্যথাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না।অথচ এই পেটব্যথা হতে পারে জটিল কোন রোগের উরসর্্। ওথবা নিতান্তই গ্যাস্ট্রিকেরব্যথা । আসলেই ব্যথাটা কোন রোগের সেই কারণটা জানা সবচেয়ে জরুরী।

গ্যাস্ট্রিক বা পেপটিক আলসারের ব্যথা সাধারণত পেটের উপরের দিকে মাঝখানে শুরু হয়। ব্যথার সঙ্গে বমিভাব, টক ঢেকুর, পেটফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা থাকতে পারে। আবার একই জায়গায় বা খানিকটা বাঁ দিক ঘেঁষে তীব্রব্যথা হলে সেটি গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নয়। এটি অগ্নাশয় প্রদহের ব্যথা হতে পারে। পিত্তথলির ব্যথা ও গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার মধ্যে অনেক খানি মিল রয়েছে। অনেক সময় বুঝে অঠা মুশকিল হয়ে পরে। পেটের উপরে ডান দিকে বাঁ মাঝে ব্যথা হলে সেটি পিত্তথলিতে প্রদাহ বা পাথরের কারনে হতে পারে। ব্যথার সঙ্গে বমি হতে পারে। তাই পেটে ব্যথা হলে অবহেলা করবেন না।

মাথাব্যথা মানেই মাথার অসুখ নয়

মাথাব্যথা হলেই অনেকেই মাথার কোনো অসুখ ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। মাথাব্যথা সবসময় মাথার অসুখের কারন হবে তা পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাথব্যথার বড়ো কারণ স্ট্রোস বা দুশ্চিন্তা এছাড়া নানা কারনেই মাথা ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় নতুন চসমা পড়লেও মাথাব্যথা হয়। মেয়েদের ঋতুস্রাব অ হরমোনের তারতম্যজনিত কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। অতিরিক্ত ও নিয়মিত মাথা ব্যথা হলে ভাবনার প্রয়োজন আছে। মাইগ্রেন, সাইনোসাইটিস,মস্তিস্কের টিউমারসহ জটিল কারণেও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। তাই মাথাব্যথা হলে দুশ্চিন্তা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

পায়ে ব্যথা
পায়ে ব্যথা

পায়ে ব্যথা- ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি না আর্থ্রাইটিস

আমিষজাতীয় খাবার ও কোষের বিপাক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের দেহে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। আবার কিডনি থেকে প্রস্রাবের  মাধ্যমে এই অ্যাসিড শরীর থেকে বেড়িয়ে যায়। কোন কারণে এটি যখন শরীর থেকে বের হতে পারে না তখন পায়ের হাতের সন্ধিতে জমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে অস্থিসন্ধি ফুলে প্রদাহ দেখা দেয়। পায়ে ব্যথা শুরু হয় তবে পায়ে ব্যথার জন্য সবসময় ইউরিক অ্যাসিডই দ্বায়ী তা বলা যায় না। হতে পারে সেটি আর্থ্রাইটিস বাঁ অষ্টিওপোরোসিসের কারণে। বয়সের কারণে হাড়ক্ষয় হয়। এই হাড়ক্ষয়ের কারণেও ব্যথা হতে পারে।

আবার অতিরিক্ত ঠান্ড বাঁ গরম আবহাওয়ায় অবস্থান করার ফলে অথবা দেহে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে ব্যথা হতে পারে। পায়ে ব্যথা হলে অনেকেই বুঝতে পারেন না কি করবেন। বিভিন্ন করণেই পায়ে ব্যথা হতে পারে। সেটি কখনো জটিল রোগের কারণে আবার কখনো আঘাত বা অন্য কোন কারণে। তাই ব্যথার চিকিৎসা শুরু করার আগে ব্যথার কারণ জানুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জানুন: হাড় ও হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হলে করণীয়

সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন সুস্থ থাকুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button