Job Preparation

বিরাম চিহ্ন কি? বিরাম চিহ্নের ব্যবহার।


বিরাম চিহ্ন :

একটি বাক্য লেখার সময় বাক্যের মধ্যে যে সকল চিহ্নের ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকেই বিরাম যতি বা ছেদ চিহ্ন বলে। এ সকল চিহ্নের মাধ্যমে লেখক নিজের আনন্দ – আবেগ ,অনুভূতি ,জিজ্ঞাসা – প্রশ্ন ইত্যাদি প্রকাশ করেন এবং ভাব প্রকাশের বিরতি বা সমাপ্তি বুঝিয়ে থাকেন।

বিরাম চিহ্ন কি বিরাম চিহ্নের ব্যবহার
বিরাম চিহ্ন কি বিরাম চিহ্নের ব্যবহার

বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের প্রবর্তক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১১ টি। কেহ কেহ বন্ধনীকে ও যতিচিহ্ন হিসেবে ধরেন সে ক্ষেত্রে ১২ টি। যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১১ টি লেখা উচিত।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিমান চিহ্ন।

 যতি চিহ্নের নাম— চিহ্ন — বিরতিকাল

  • ‌কমা ( , ) এক বলতে যে সময় প্রয়োজন।
  • ‌উদ্ধরণ চিহ্ন ( ‘ ’/ ‘‘ ’’ ) এক উচ্চারণে যে সময় লাগে।
  • ‌সেমিকোলন ( ; ) এক বোলার দ্বিগুণ সময়।
  • ‌দাঁড়ি ( । ) এক সেকেন্ড।
  • ‌জিজ্ঞাসা চিহ্ন ( ? ) এক সেকেন্ড।
  • ‌ বিস্ময় চিহ্ন ( ! ) এক সেকেন্ড।
  • ‌ কোলন ( : ) এক সেকেন্ড।
  • ‌ কোলন ড্যাস ( :- ) এক সেকেন্ড।
  • ‌ ড্যাস ( _ ) এক সেকেন্ড।
  • ‌ হাইফেন ( – ) থামার প্রয়োজন নেই।
  • ‌ ইলেক বা লোপ চিহ্ন ( ‘ ) থামার প্রয়োজন নেই।
  • ‌ প্রথম বন্ধনী। () থামার প্রয়োজন নেই।
  • ‌ দ্বিতীয় বন্ধনী {} থামার প্রয়োজন নেই ।
  • ‌ তৃতীয় বন্ধনী [ ] থামার প্রয়োজন নেই।


যতিচিহ্ন সমূহ মনে রাখার কৌশল:
  • ‌থামার প্রয়োজন নেই : হাইফেন ,ইলেক বা লোপ চিহ্ন, বন্ধনী।
  • ‌ এক সেকেন্ড : দাঁড়ি, জিজ্ঞাসা চিহ্ন ,বিস্ময় চিহ্ন, কোলন ,ড্যাস, কোলন ড্যাস।
  • ‌ এক বলতে যে সময় প্রয়োজন: কমা ,উদ্ধরণচিহ্ন।


বিরাম চিহ্নের ব্যবহার
  • ‌দাঁড়ি ( । ) : দাড়ি শব্দের অর্থ পূর্ণচ্ছেদ। বাক্যের পরিসমাপ্তি বোঝাতে দাঁড়ি ব্যবহার করা হয়। যেমন- বাবা আমাকে খুব ভালোবাসেন।
  • ‌ জিজ্ঞাসা চিহ্ন ( ? ) : জিজ্ঞাসা চিহ্ন কে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও বলা হয়। বাক্যে কোন জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন করা বোঝাতে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন- তুমি কি বাংলা সিনেমা দেখতে পছন্দ করো?
  • ‌ বিস্ময় চিহ্ন ( ! ) : হৃদয়ের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করতে বিস্ময় চিহ্ন বসে। যেমন- কামনা প্রকাশে- আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন! আবেগ প্রকাশে- হে আল্লাহ আমাদের রক্ষা কর!
  • ‌ কোলন ( : ) : একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন – মনের কথাই বলি : না থাক আজ আর বলবো না।
  • ‌ ড্যাস ( _ ) : কোন কথার উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, বিস্তার , দুই বা তার বেশি বাক্যের সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্নের ব্যবহার হয়। যেমন- গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার _ মৌলিক শব্দ, সাধিত শব্দ।

সংযোগ বোঝাতে,,,, তোমরা হিংসা করোনা _ হিংসাতে মান সম্মান যাবে _ থাকবে না।

  • ‌ ইলেক ( ‘ ) : কোন কিছু লোপ পেলে তাকে ইলেক বা লোপ চিহ্ন বলে। যেমন- দু’বন্ধুর খুব মিল। বাক্যটিতে দুই বন্ধুর খুব মিল বোঝানো হয়েছে।
  • ‌ কমা ( , ) : সম্বোধন পদের পরে কমা বসে। যেমন- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?

সম জাতীয় পদ পাশাপাশি বসলে তাদের পর কমা বসে। যেমন- হাঁস, মুরগি ,ভেড়া ,ছাগল গৃহপালিত পশু।

নামের পর ডিগ্রি সূচক পরিচয়ে কমা বসে। যেমন- রহিম, বার, এট_ল, লন্ডন।

বাড়ি বা রাস্তার নামের পরে কোন বসে। যেমন- ৮৩, নিউ পল্টন , আজিমপুর, ঢাকা_ ১২০৫।

তারিখ লেখার সময় মাস ও দিনের পর কমা বসে। যেমন- ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সাল।

জানুনঃ কোষ্ঠকাঠিন্য-কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার

  • ‌ সেমিকোলন ( ; ) : দুটি বাক্যের মধ্যে অর্থের ঘনিষ্ঠ যোগ, তুলনা বা বৈপরীত্য দুটি বাক্য সংযোগ, একই শ্রেণির বিষয়কে গুচ্ছভুক্ত বা একাধিক দীর্ঘ বাক্যাংশকে পৃথক বলতে সেমিকোলন বসে। যেমন-তাকে নিয়ে আমি কথাই বলবো না; তাতে যা হবার হোক।
  • ‌ হাইফেন ( – ) সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেন ব্যবহার হয়। যেমন- এ আমাদের শ্রদ্ধা – অভিনন্দন, আমাদের প্রীতি – উপহার।
  • ‌ কোলন ড্যাস ( :- ) কোলন যেখানে ড্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয় কেবল সেখানেই কোলন ড্যাস ব্যবহৃত হয়। যেমন- পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ,অব্যয়, ক্রিয়া।
  • ‌উদ্ধরণ চিহ্ন ( ” ) : সাধারণত বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উদ্ধরণ চিহ্ন ব্যবহার হয়। যেমন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ” মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ” ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button