Job Preparation

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ বিভাগ

বাংলা সাহিত্য বাঙালি জাতির প্রাণস্রোতের প্রকাশ। জাতির বিবর্তনের সঙ্গে সাহিত্যের সমৃদ্ধি ঘটেছে। প্রাচীনকালের নিদর্শন প্রাপ্তি থেকে আজ অবধি বাংলা সাহিত্যে নানাভাবে যে সৃষ্টি সম্ভাবনা হয়েছে, গবেষকগণ সময়ের প্রবণতা ও সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য অনুসারে তার কয়েকটি ভাগ করেছেন। সে বিচারে বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ এ-রকম ঃ প্রাচীন যুগ হল ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ, মধ্যযুগ হল ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ এবং আধুনিক যুগ হল ১৮০১ থেকে বর্তমান আজ পর্যন্ত।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ বিভাগ
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ বিভাগ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের উপর থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় যে সকল প্রশ্ন এসেছে এবং আসার উপযুক্ত সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো ঃ

১। বাংলা সাহিত্য কোন শব্দ থেকে এসেছে?
উঃ ‘সহিত’ শব্দ থেকে।
২। এখানে সহিত শব্দের অর্থ কি?
উঃ হিত সহকারে বা মঙ্গলজনক অবস্থা।
৩। বাংলা সাহিত্যের বয়স কত?
উঃ প্রায় এক হাজার বছর।
৪। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থের নাম কি?
উঃ চর্যাপদ।
৫। বাঙালি জাতির গঠন কেমন?
উঃ শংকর বা মিশ্র জাতি।
৬। সর্বপ্রথম ‘বঙ্গ’ নামের উল্লেখ কোথায় পাওয়া যায়?
উঃ ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।
৭। কোন গ্রন্থে ‘বঙ্গ’ ও ‘বঙ্গাল’ উভয় শব্দের উল্লেখ আছে?
উঃ তারিকই ফিরোজ শাহী।
৮। বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রথম কোন গ্রন্থে চোখে পড়ে ?
উঃ আইন- ই আকবরী।
৯। আইন-ই আকবরী গ্রন্থের রচিয়তা কে?
উঃ আবুল ফজল।
১০। কোন ভাষাটি অপরিবর্তিত সাহিত্যিক ভাষা?
উঃ সংস্কৃত।
১১। ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় কোথায়?
উঃ রামায়ণে।
১২। বাংলা সাহিত্য কে প্রধানত কয়টি যুগে ভাগ করা হয়?
উঃ তিনটি।
ক। আদি যুগ ঃ ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
খ। মধ্যযুগ ঃ ১২০০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ।
গ। আধুনিক যুগ ঃ ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমানকাল।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

বিশেষ যুগ ঃ
১২০১ থেকে ১৩৫০ = অন্ধকার যুগ ।
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ = যুগ সন্ধিক্ষণ ।
১৭৬০ থেকে ১৮৩০ = অবক্ষয় যুগ ।
১৩৫১ থেকে ১৫০০ = চৈতন্য পূর্ববর্তী যুগ।
১৫০০ থেকে ১৬০০ = চৈতন্য যুগ ।
১৬০১ থেকে ১৮০০ = চৈতন্য পরবর্তী যুগ ।
১৩। অন্ধকার যুগ নামকরণ কেন করা হয়?
উঃ এ সময় কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচিত হয়নি।
১৪। অন্ধকার যুগের সময়সীমা কত বছর?
উঃ ১৫০ বছর।
১৫। যুগ সন্ধিক্ষণ বলা হয় কত সালকে?
উঃ ১৭৬০ সাল।
১৬। গদ্যের সূচনা হয় কত সালে?
উঃ ১৮ সালের দিকে?
১৭। আধুনিক যুগকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
উঃ দুই ভাগে।
১৮। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের আদি নিদর্শন কোনটি?
উঃ চর্যাপদ বা চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি ।
১৯। চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কার হয়?
উঃ ১৯০৭ সালে।
২০। চর্যাপদ আবিষ্কারকের নাম?
উঃ মোহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
২১। চর্যাপদ কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
উঃ নেপালের রাজ দরবারের রয়েল গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
২২। চর্যাপদ কিসের সংকলন?
উঃ গানের সংকলন।
২৩। চর্যাপদ প্রকাশিত হয় কখন?
উঃ ১৯১৬ সাল ( বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ,কলকাতা )
২৪ । চর্যাপদ পশ্চিম বাংলার কোন ভাষা লিখিত?
উঃ প্রাচীন কথ্য ভাষায়।
২৫ । চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
উঃ এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

২৬ । চর্যাপদে কবির সংখ্যা কতজন?
উঃ ২৪ জন ( ডঃ মোঃ শহিদুল্লাহর মতে ২৩ জন)
২৭ । চর্যাপদে কয়টি পদ বা গান ছিল?
উঃ সুকুমার সেনের হিসেবে ৫১ টি ও মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন ৫০ টি।
২৮ । কোন কবি সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন?
উঃ কাহ্নপা ।
২৯। কাহ্নপা কতটি পদ রচনা করেন?
উঃ ১৩ টি।
৩০। কোন কবি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ লেখেন?
উঃ ভুসুকুপা আট টি।
৩১। প্রতিটি পদ সাধারনত কতটি লাইন সহযোগী গঠিত?
উঃ ১০ টি (২১ নম্বর পদে ৮ লাইন এবং ৪৩ নম্বর পদে ১২টি লাইন রয়েছে।
৩২। চর্যাপদ পাওয়া গিয়েছে কতটি?
উঃ সাড়ে ৪৬টি।
৩৩। কোন কবির রচিত পদ পাওয়া যায়নি?
উঃ তন্ত্রীপা (পদ নম্বর ২৫)
৩৪। চর্যাপদের প্রথম পদ কে লিখেছেন ?
উঃ লুইপা।
৩৫ । চর্যাপদের আদি কবি কে?
উঃ লুইপা।
৩৬। চর্যাপদের কবিদের নামের সাথে পা যুক্ত কেন?
উঃ তারা পদ রচনা করতেন বলে।
৩৭। চর্যাপদের কোন পদ খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?
উঃ ২৩ নম্বর পদটি।
৩৮। চর্যাপদের ভাষাকে কি ভাষা বলা হয়?
উঃ সন্ধ্যা ভাষা বা সান্ধ্য ভাষা।
৩৯। চর্যাপদে কোন কোন পদ পাওয়া যায়নি?
উঃ ২৪ নম্বর ২৫ নম্বর ও ৪৮ নম্বর।
৪০। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন এর মূল নাম কি?
উঃ চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়।

৪১। চর্যা শব্দের অর্থ কি?
উঃ আচরণ।
৪২। বাংলা ভাষায় প্রথম কাব্য সংকলন কি?
উঃ চর্যাপদ
৪৩। চর্যাপদ কোথায় আবিষ্কার করা হয়?
উঃ এটি আবিষ্কার করা হয় নেপালের রয়েল লাইব্রেরী থেকে।
৪৪। বাংলা কত সালে চর্যাপদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উঃ ১৩২৬ বঙ্গাব্দ
৪৫। চর্যাপদের মূল বিষয়বস্তু কি?
উঃ বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় তত্ত্বকথা।
৪৬। চর্যাপদ কি ধরনের কাব্য?
উঃ চর্যাপদ একটি রূপক কাব্য।
৪৭। চর্যাপদ যে বাংলা ভাষায় রচিত এটি প্রথম প্রমাণ করেন কে?
উঃ সুনীতকুমার চট্টোপাধ্যায়।
৪৮। চর্যাপদের শেষ কবি কে?
উঃ সরহপা।
৪৯। চর্যাপদের বাঙালি কবি কয়জন?
উঃ ২জন। (ভুসুকুপা এবং শবরপা)

চর্যাপদের উল্লেখযোগ্য কবিদের পরিচয় ও প্রশ্ন উত্তর পর্ব।

(কাহ্নপা)

৫০। চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?
উঃ কাহ্নপা
৫১ । তিনি কয়টি পদ রচনা করেছেন?
উঃ ১৩টি
৫২। তিনি কোন কোন পদগুলো রচনা করেন?
উঃ ১৩টি পদগুলো হলো ৭, ৯ থেকে ১৩, ১৮ ,১৯, ৩৬, ৪০ ,৪২ ,৪৫ (২৪ নম্বর পদটি কাহ্নপা রচিত তবে সেটি পাওয়া যায়নি)
৫৩। এই পদ সমূহের বৈশিষ্ট্য কি?
উঃ এই পদ গুলোতে নিপুন কবিত্বশক্তি প্রকাশের পাশাপাশি তৎকালীন সমাজচিত্র ও উদঘাটিত।
৫৪ । চর্যাপদ ছাড়াও তিনি আর কোন ভাষায় রচনা করেন?
উঃ অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেন।


(লুইপা)

৫৫ । লুইপা কে ছিলেন?
উঃ প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি। লুইপা-কে আদি চর্যাকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ছিলেন চর্যাপদের প্রধান কবি।
৫৬ । তিনি কোন সময় কোথায় অবস্থান করতেন?
উঃ মোঃ শহীদুল্লাহর অনুমান ঃ ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
৫৭ । লুইপা কার গুরু ছিলেন?
উঃ লুইপা উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন।
৫৮। চর্যাপদের প্রথম পদটি কার রচনা?
উঃ লইপা রং
৫৯ । চর্যায় তিনি মোট কতটি পদ লিখেছেন?
উঃ ২টি ( ১ ও ২৯ নম্বর)
৬০ । লুইপা রচিত কয়টি সংস্কৃত গ্রন্থের নাম পাওয়া যায় , কি কি?
উঃ ৫টি । অভিসময় বিভঙ্গ, বজ্রস্বত্ব সাধন, বুদ্ধোদয় , ভগবদাভসার,তত্ত্ব সভাব।

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ নিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি মূলক প্রশ্ন ও উত্তর।
( ভুসুকুপা )

৬১ । ভুসুকুপার সময় অবস্থান কোথায়?
উঃ মনে করা হয় ৮ম থেকে ১১ শতকে ভুসুকুপা সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন।
৬২ । চার্যায় পদ রচনার দিক থেকে তার অবস্থান কোথায়?
উঃ দ্বিতীয়।
৬৩। তিনি কয়টি পদ রচনা করেন ও কি কি?
উঃ ৮টি। ( ৬, ২১,২৩,২৭,৩০,৪১,৪৩,৪৯ )
৬৪ । তিনি কোন অঞ্চলের মানুষ?
উঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ অনুমান করেছেন পূর্ববঙ্গের।
৬৫ । তার রচিত পদ সমূহের বৈশিষ্ট্য কি?
উঃ যেখানে বাঙালি জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।

      নিয়োমিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমাদের পাশেই থাকুন। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button