Health

পানিতে ডুবে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয়

আমাদের চারপাশে অসংখ্য ডোবা ,নালা ,খাল ,পুকুর তাছাড়াও ছোট ছোট বিল রয়েছে। ছোট বড় সকলেরই এসব পুকুর ,খাল ,বিল বা নালায় গোসল করার ইচ্ছা জাগে। সমস্যাটা হচ্ছে আমরা সবাই কিন্তু সাঁতার জানিনা, বিশেষ করে যারা শহরে থাকে তারা অনেকেই সাঁতার জানে না।

পানিতে ডুবে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয়
পানিতে ডুবে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয়

গ্রাম বা শহরের অনেক শিশুই সাঁতার জানেন না। শিশু হোক আর বয়স্ক হোক নির্দিষ্ট বয়সে অবশ্যই সাঁতার জানাটা দরকার। সাঁতার না জানলে কখনোই পানিতে নেমে গোসল করা উচিত নয় । শখের বসে নৌকা ভ্রমণের সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন সাঁতার না জানা কোন ব্যক্তিকে নৌকা ভ্রমণে নেওয়া না হয়। বাড়ির পাশে পুকুর থাকলে শিশুদের দিকে বিশেষ নজর রাখা দরকার, কোন কারণে পা পিছলে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা করতে পারে।

পানিতে ডুবে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয়

পানি উপরে তুলে গোসল করলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। ভুলবশত যদি কেউ পানিতে পড়ে যায় সে ক্ষেত্রে সাথে সাথে ভাসমান কোন কিছু পানিতে ছুড়ে দিয়ে বা সাঁতরিয়ে তাকে উদ্ধার করতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে আবার সতর্ক থাকতে হবে রোগী যেন উদ্ধারকারীকে জড়িয়ে ধরে তার জীবন বিপন্ন না করে।

ব্যতিক্রম ঘটলে একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে দুজনই বিপদের সম্মুখীন হবে এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো ডুবন্ত ব্যক্তির শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।

পানি শ্বাসনালি ও ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার কারণেই মূলত এমনটি হয়ে থাকে। এভাবে দুই থেকে তিন মিনিট শ্বাস বন্ধ থাকলে মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। আর চার থেকে ছয় মিনিট যদি শ্বাসক্রিয়া বন্ধ থাকে, তাহলে মৃত্যু ঘটে।

ডুবে যাওয়া রোগীকে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে হবে–

শিশু হলে করণীয়

ক। পায়ের গোড়ালি বডির উঁচু করে ধরতে হবে।

খ। মাথা নিচের দিকে থাকবে।

গ। মাঝে মাঝে পিঠে হালকা চাপ দিতে হবে।

এতে গিলে খাওয়া পানি বের হয়ে আসবে এবং মুখে যদি জলজ উদ্ভিদ থাকে তাও বের হয়ে আসবে।

ঘ। মুখের চোয়াল ফাঁক করে, মুখে মুখ লাগিয়ে বাতাস ঢোকাতে হবে।

ঙ। কৃত্তিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

চ। ভেজা কাপড় খুলে ফেলতে হবে।

ছ। দ্রুত মেডিকেল সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, মেডিকেল না পাওয়া পর্যন্ত কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যেতে হবে।

বীজ প্রযুক্তি- ( A to Z )

বয়স্ক লোক হলে করণীয়

ক। প্রথমেই রোগীর গোলা ও মুখ পরিষ্কার করতে হবে।

খ। রোগীর হাঁটু ভাঁজ করে চেয়ার বা টুলের উপরে এমন ভাবে বসাতে হবে যেন মাথা ঝুলে থাকে, উদ্দেশ্য হচ্ছে মাথা নিচের দিকে রাখা।

গ। এবার পিঠে হালকা চাপ দিলে গিলে খাওয়া পানি বের হয়ে আসবে সেই সাথে জলজ উদ্ভিদ খেলে সেগুলো ও বেরিয়ে আসবে।

ঘ। মুখে মুখ লাগিয়ে বাতাস ঢোকাতে হবে।

ঘ। ভেজা কাপড় খুলে ফেলতে হবে।

ঙ। দ্রুত মেডিকেলের সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, মেডিকেল না পাওয়া পর্যন্ত শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যেতে হবে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button